মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা

 

আঠারখাদা ইউনিয়ন ভূমী অফিস

আঠারখাদা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন

মাগুরা সদর,মাগুরা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

বিশ্বে যেমন খাদ্যাভাব ও পুষ্টিহীনতার অধিকাংশ লোক হাড্ডিসার দেহ নিয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে তেমনি অধিক ধনীরা অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে স্থূলাকার, মেদভূঁড়ি, ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে ভুগছে। এই অসম খাদ্যবণ্টন বিশ্বব্যাপী আজ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ। একাধিক যেমন অপুষ্টি এবং?অতি পুষ্টি বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি, অকাল মৃত্যুসহ নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে তেমনি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। বর্তমানে ১০০ কোটি লোক পৃথিবীতে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত। কিন্তু বিশ্ব খাদ্য সম্মেলনে ২০১৫ সনের মধ্যে ক্ষুধা ও দরিদ্রতা অর্ধেকে নামানোর কথা। কিন্তু খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি, দরিদ্রতা, অসম খাদ্যবণ্টন ইত্যাদির কারণে এটি ২১৫০ সনের আগে অর্জিত হবে না বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান জানান। এই রকম চিত্র বাংলাদেশেও। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, দেশের ৫০% লোক বছরে কোনো না কোনো সময় খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে এবং ২৫% লোক নিয়মিত খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে এবং ৭% লোক তিন বেলা খেতে পায় না। আমাদের দেশে মাত্র চার ভাগের এক ভাগ লোক শরীরে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশক্তি পায়। ভয়ংকর হলেও সত্য এ দেশে শতকরা মাত্র এক ভাগ লোকের ভিটামিন-বি এবং ২৩ ভাগ লোক ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণ হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৫ হতে ২০০৮ এর মধ্যে দরিদ্রতার সংখ্যা ১.৩ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি জমি ১৯৭১ সনে ১ কোটি হেক্টর পক্ষান্তরে বর্তমানে প্রায় ৬৫ লাখ হেক্টর। ২০২৫ সনে বাংলাদেশে লোকসংখ্যা হবে প্রায় ২০ কোটি এবং খাদ্য লাগবে ৩ কোটি ২৫ লাখ টন। অতএব সামনে আমাদের জন্য কি ভয়ঙ্কর সময় অপেক্ষা করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। খাদ্য নিরাপত্তা খাদ্য নিরাপত্তা এটি সহজভাবে বললে- কোন দেশের সব জনসংখ্যার সহজভাবে কোন ধরনের খাদ্যশস্য ও পুষ্টি লভ্যতাকে বুঝানো হয়। তবে অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বাজার বিশৃঙ্খলার কারণে হঠাৎ আসা আপদের সময় উদ্ভূত খাদ্য সংকটের মোকাবেলায় খাদ্যশস্য মজুদ থাকাকে খাদ্য নিরাপত্তা বলে। এফএও (ঋঅঙ) (১৯৯৬) এর মতে, ‘খাদ্য নিরাপত্তা হচ্ছে যা মানুষের জন্য সব সময়ের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের লভ্যতা, যার ফলে তারা তাদের পথ্যের অভাব এবং খাদ্যের অভিরুচি অগ্রাধিকার মিটিয়ে একটি কর্মঠ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারে।’ কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হচ্ছে একটি কৃষক সমপ্রসারণ এবং আয় বর্ধনমূলক কৃষক ক্লাব। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, তথ্য বা সেবা যথা সময়ে সাধারণ জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ দেশে বর্তমানে ২০টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসি আছে। এআইসিসি কৃষি তথ্য সার্ভিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এ সব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের চাহিদামাফিক সঠিক তথ্য সময় মতো কৃষির সাথে সরাসরি জড়িত কৃষকের বাড়ির কাছে বা পাড়ায় সরবরাহ দেয়া। এআইসিসি কৃষিবিষয়ক তথ্য আদান প্রদানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্লাবের সদস্যসহ অন্যান্য স্থানীয় জনগণ এ তথ্য কেন্দ্র হতে উপকৃত হবেন। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ওয়েব ক্যাম, রেকর্ড প্লেয়ার, মোবাইল সেট ও সিম, মডেম ও ইন্টারনেটসিমসহ আরো অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সুযোগ-সুবিধা কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আছে। এআইসিসিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষকগণ সরাসরি কৃষিবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) বাংলা পূর্ণাঙ্গ ওয়েব (www.ais.gov.bd) সাইট হতে কৃষিবিষয়ক তথ্য গ্রহণ করে। এ ছাড়া ক্লাবের সদস্যগণ সরবরাহকৃত মোবাইলের সাহায্যে কৃষি কর্মকর্তা বা এআইএস-এর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সমাধান পেতে পারেন। এছাড়া ওয়েব ক্যামের সাহায্যে ছবি তুলে বা ওয়েব ক্যামের সামনে সমস্যা-বস্তুটি নিয়ে এসে সরাসরি ছবি দেখিয়ে ও আলোচনার মাধ্যমে (ভিডিও কন্ফারেন্স) সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। এটি শুধু কৃষি তথ্যের আদান প্রদান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে না বরং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয় বলে স্থানীয় পর্যায়ের বেকার জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা বাদে উদ্বৃত্ত টাকা আরো আয় বর্ধনমূলক যেমন- মৎস্য চাষ, ভালো বীজ উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি কাজে খাটানো হয় বলে এটি সদস্যবৃন্দের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সহায়তা করে। খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র ১. যেহেতু দেশের বৃহৎ জনসংখ্যার প্রধান পেশা কৃষির কাঙিক্ষত সমপ্রসারণ সেবা প্রচলিত সমপ্রসারণ পদ্ধতি দ্বারা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সমপ্রসারণ সেবা দেয়া সহজ এক্ষেত্রে এআইসিসি সমপ্রসারণ সেবার ইউনিট হিসেবে কাজ করবে, ফলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যাবে এবং জমির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে পারবে। ২. অধিকাংশ কৃষকই অশিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিত। তাই প্রচলিত সমপ্রসারণ কার্যক্রম দ্বারা তাদের শিক্ষিত করা দুরূহ। যেহেতু আইসিসি সদস্যরা স্থানীয় সেহেতু তারা তাদের সমস্যা যেমন তুলে ধরতে পারবে তেমনি তথ্য সহজে কৃষক সমাজকেও বোঝাতে সক্ষম হবে। ৩. মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রাদুর্ভাব কমাতে, সময়মতো কৃষি উপকরণ (সার, বীজ কীটনাশক) প্রাপ্যতার তথ্য প্রদানে, পণ্য পরিবহন জ্ঞানের উন্নয়নে, কৃষি বাজার সম্পর্কে কৃষকের জ্ঞান উন্নয়নে এআইসিসি ভূমিকা রাখতে পারে এর ফলে কৃষক লাভবান হবে। এ ছাড়া তারা উন্নত প্রযুক্তি ও অধিক উৎপাদনের কলাকৌশল গ্রহণে সচেষ্ট। ৪. দেশে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ব্যবস্থা এখনো ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। যেহেতু কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এ উৎপাদন প্রচলিত চাষ পদ্ধতি অপেক্ষা বেশি। এ কারণে এআইসিসি সদস্যদের যদি আমরা এ সম্পর্কে বুঝাতে পারি তবে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং গ্রহণ ও প্রচারণায় তাদের কাজে লাগানো যাবে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা যেমন বাড়বে সাথে সাথে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠবে এবং শিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্যতা নিশ্চিয়তা হবে। ৫. কৃষকদের সমবায় জ্ঞান না থাকা এবং কৃষি সমবায় ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা কৃষি উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধক। আইল এর কারণে কৃষকের জমি বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো থাকে। তাই ইচ্ছা থাকলেও মূলধনের অভাবে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি বা উপকরণ কোনটিই কাজে লাগাতে পারে না। একটি পুরাতন তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে সব আইল যোগ করলে তা বৃহত্তর বগুড়া জেলার চেয়ে বড় হয়। বর্তমানে জমির আইল আরো বেড়েছে তা নিশ্চিত। এআইসিসিকে যেহেতু উন্নত কৃষি কলাকৌশল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা যায় সেহেতু সদস্যদের সমবায়ভিত্তিক কৃষি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা সহজ হবে। ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। ৬. কৃষকের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা এবং কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারও খুব কম বিধায় আইসিসি সদস্যরা তা দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে কৃষক সমাজের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে যা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়ক। ৭. বেকার জনগণের বিকল্প কাজের সংস্থান হবে এর ফলে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠবে। ৮. যেহেতু সদস্যরা এখান থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারে ফলে তারা তাদের সুবিধা মতো ফসল ফলাতে পারবে এবং কৃষি উপকরণ সময়মতো কিনতে পারবে। ফলে অধিক উৎপাদন যেমন হবে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও বাড়বে। ৯. ফসল উৎপাদনের সাথে সরাসরি জড়িত কৃষকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এআইসিসির প্রশিক্ষিত সদস্যরা প্রশিক্ষণ দেবে যাতে ফসলের উৎপাদন বাড়তে পারে। এর ফলে কৃষকের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। ১০. খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে হলে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত দেশের বিভিন্ন এলাকার জন্য বিভিন্ন স্ট্রেস টলারেন্স ফসলের জাত যেমন- খরা, বন্যা, লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত সম্প্রসারণে সদস্যরা ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ একটি জাত অতি সহজে সমপ্রসারণ করা যায় না। এআইসিসি সদস্যরা যেহেতু স্থানীয় কৃষক তাই গবেষণালব্ধ এসব জাত সাধারণ জনগণের হাতের কাছে পৌঁছাতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ১১. বসতবাড়ির পরিমাণ বাংলাদেশে প্রায় ১৮৪৯০০০ একর। এত বড় কৃষি ইউনিটকে যদি কার্যকরী করতে চায় তবে দরকার উন্নত কৃষি জ্ঞান আর তা সমপ্রসারণের জন্য আমরা এআইসিসিকে কাজে লাগাতে পারি। যা খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়ক। ১২. আন্তঃএআইসিসিতে যোগাযোগ করার যেহেতু ব্যবস্থা থাকে সেহেতু বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান এর মাধ্যমে সম্ভব। এর ফলে এ জায়গার ভালো প্রযুক্তি অন্য জায়গায় বিস্তার ঘটবে এর ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। ১৩. খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে হলে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে আর এজন্য উষ্ণ আবহাওয়া সহিষ্ণু যেমন- ভুট্টা, বাজরা, জোয়ার ইত্যাদি ফসলের আবাদ করতে হবে। এই ফসল সমপ্রসারণে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তথ্য-প্রযুক্তি ও জ্ঞানের দিক থেকে এআইসিসি সদস্যরা এগিয়ে থাকে।